Tuesday, July 28, 2015

ভালবেসে মরে গেলাম

রাতের আঁধার টিপ টিপ করে জ্বলছে,
আমি নিদ্রাহীন, আলোহীন জোছনা;
কি যেন কি ছিল শেষ রাতে
তোর ভেজা চোখ, সুখকর দুঃখ গুলো
ভেতরটায় চিন চিনে আনন্দে
কি থেকে কি হয়ে গেল_
বৃদ্ধ স্মৃতি ফিরে এলো।

আমি করুণ,
এ বেলা, ও বেলা করেই যাচ্ছে।
আগের মত না,
অতীত বর্তমান হয় না।

চোখেরা যখন জানালার আকাশে ভোর খোঁজে
কিংবা বিকেলের গোধূলি
আমি তখনো শতাব্দীর পর শতাব্দী
তোর ফেরা খুঁজি।

হ্যাঁ, আমি জানি বাবা-মা'র ভালবাসায় সব
আমি যে ভালবেসে মরে গেলাম
এমন কে করেছে বল?

৭ই জানুয়ারি,  ২০১৫

Monday, July 27, 2015

অগ্নিশাপ

আমায় স্বপ্ন দিবি
তোকে টুকরো করে খাওয়াতাম
যেভাবে সেদিন আমার
সবটুকু অন্তর ছিড়ে দিলাম।
মনে আছে তোর?

বৃদ্ধের মত দীর্ঘ অপেক্ষা
কখন শেষ হবে জানিনা
শুধু স্বপ্ন গুলো এখন
অভিমানে কান্নার মতই অজানা।
দেখবি না তুই?

একবার দেখে যা
দেখে যা কত ক্ষত ভিতরে
নাঙকরানী,
সব তোর জন্য
জানিস না তুই?

থাক, আজ একাই বাঁচবো
একাই ক্ষত সারাবো
গোটা স্বপ্ন খাব
এটা খাব, ওটা খাব
পেলে তোকেও খাব!

শুধু, স্বপ্ন চাইব না আর
স্বপ্ন একদিন গল্প হয়ে যায়;
গল্প হয়ে যায় অভিজ্ঞতা।

Saturday, July 25, 2015

স্বপ্ননী

তোমাকে দেখেছি দুই নয়নে
স্বপ্নে দেখা দ্বি-প্রহরে
কাজল চোখে চন্দ্র হাসি মুখে
দাঁড়িয়ে ছিলে সাগর পাড়ে।

নীরব উত্তাপে সুখ উড়িয়ে
স্বর্গীয় বক্ষ ছায়াতলে
নরম ঠোঁটে চুমু তুলে
ডেকেছিলে অদৃশ্য মহলে।

ভালবেসে এঁকেছি তাই তোমাকে
পৃথিবী মহাকাশ
ভালবাসার আঁচে তাই গড়ে যায় 
পৃথিবী মহাকাল।

৯ই মে, ২০০৮

আশার কথা

জানি একদিন তুমি আসবে
থাকবে চিরকাল পাশে
ভুলগুলো সব ভুলে গিয়ে
অভিমানের জল তাড়াবে।

যদি নিয়ে আসো
জোছনায় ভিজিয়ে মন
ভালবেসে যাব, দেখ-
সারাটি জীবন।

১৪ই জুন, ২০১০

আলোর ডাক

রাতের পর দিন আসে
সকাল হয়েছে সবাই দেখে
এ কথাটি সবাই জানে
জানেনা তো শুধু অন্ধ।

সবাই থাকলে দুখির পাশে
হাসি ফুটবে সবার মুখে
খুশি আসবে সবার প্রাণে
না রাখলে চোখ বন্ধ।

প্রার্থনা করি স্রষ্টা তোমার তরে
বিবেক দিয়ো প্রভু সবার অন্তরে।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ 

এই আমার বাংলাদেশ (Lyric)

চারিদিকে চেয়ে দেখ সবুজের দেশ
এই আমার বাংলাদেশ
এই মোদের বাংলাদেশ।

সাঁঝেরো বেলা, বাঁশেরো বনে
পাখিরা গান গায়, সুমধুর কণ্ঠে 
বসন্ত এলে, দখিনা বাতাসে
মাঠের ফসল যে হায় দোলে

এই অপরূপে সজ্জিত এই দেশ
এই আমার বাংলাদেশ
এই মোদের বাংলাদেশ।

নদীরো বুকে, পালতোলা নাউ যে চলে
নদীরো তীরে, কাঁশবন ভরে ফুলে
চারিদিকে সবুজে, মনেরো আবেগে
হারিয়ে যেতে চাই, ঐ সুদূরে

এই সবুজে শোভায়ে সোনার এই দেশ
এই আমার বাংলাদেশ
এই মোদের বাংলাদেশ।

৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮

Friday, July 24, 2015

স্বপ্ন ভঙ্গের রাত

কিছু রাতের কষ্ট একান্ত নিজের
একান্ত আপন
একান্ত-
একান্তই সহ্যের!

কেউ না থাকা বৃদ্ধের মত
দীর্ঘ রাত কিভাবে পার হয়?
কোথায় যে যায় নাকি হারায়?
স্বপ্ন আসে, ভাংগে- যুদ্ধের মত
দুঃখ নেই। দেখ হাসি চোখ
দুঃখ তার কথায়, তার ব্যর্থতায়!

আমার শরীর কেটে প্রতিটি জায়গার মাংস নাও
দুঃখ নেই;
আমার শরীর অগ্নিসাগরে ভাসিয়ে দাও
কষ্ট নেই;
আমার সব নাও তবু একটু বাঁচতে দাও স্বপ্ন;
নিজের মত!

একটা ছোট স্বপ্নতেই বাঁচতে চাই
যখনই গড়বো ঠিক তখনি মৃত্যু কারাগারে বন্দি
এত বাঁধা কেন? এত সংকচ!

তবুও আমি থামিনি
আমি জানি বাধা আসবে,
আবার যাবেও
নিজের কষ্টই কখনো মুখ লুকাইনি
তাই নিঃশেষের মাঝে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি!

মানুষ নিজের হয়ে বাঁচেনা
মানুষ বাঁচে অন্যের জন্য
আমি তাই আমার ভাবিনা
তুমি; তোমরা ভাল থেকো।

স্বপ্ন দেখা কারো থামেনা
হারিয়ও না তাই কোনদিন
আমি ভাল আছি, থাকবো
স্বপ্নের দেশে নিজের মতই।

১৬ সেপ্টোম্বর, ২০১৪

Thursday, July 23, 2015

সবার আমি

আমি পথের পথিক
পথে পথে চিহ্ন হই
আমি ছন্দের বেসিক
গানে গানে শব্দ মেলাই।

আমি আঁধারের নাবিক
আলোর মিলনে মিলিয়ে যায়
আমি নষ্ট ঝিনুক
নরম গলায় শোভা বাড়ায়।

আমি বিকেলের শালিক
গোধুলি দেখে পালিয়ে যায়
আমি পড়ে থাকা পালক
ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে যায়।

আমি আর্তনাদের মালিক
ঘরের দেয়ালে থেকে যায়
আমি কষ্টের প্রতিক
সব কষ্ট একাই বয়ে যায়!

Monday, July 20, 2015

আগস্টের রাতে.....

এই মাসেই একটা হিসেব কষেছিলাম মেলেনি
জন্মের সময়কার হিসেবে কি যেন গড়মিল ছিল; তাই হইতো
একটা কুকুর রোজ ডাকে; কাকে?
পৃথিবীর শেষ ডিমলাইট টা যখন নিভে।
আঁধারের কোন আলো নেই
ক্যামেরার চোখে কোন স্বপ্ন নেই
মনেরও কোন ব্যাথা নেই!

কোন এক বছরে আগষ্টের চাঁদে অমবশ্যা এসেছিল
দেখেছিল কেউ এক জন;
ডেকেছিল একটা কুকুর-
সাথে একটি বিড়াল
আর কালসাপের ফিস ফিসে ঘুম ভেঙ্গেছিল আমার
জানালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া চোখে,
দেখেছিলাম আধারে বসে সাদা একটি মেয়ে
ছেঁড়া জামা, রক্তাক্ত দেহ
ও কাঁদছিল দু'হাতে!
হি হি হি ওর'ও স্বপ্ন ভেঙেছিল। আমি শিওর না।
কিন্তু ওর শরীরে বেদনা ছিল;
বেদনার তো কোন আনন্দ নেই
অবশাদের কোন স্বাদ নেই
মৃত্যুর কোন জন্ম নেই!

আচ্ছা! প্রানহীন মানুষ গুলোকে কেন গোরস্থানে রাখে?
মানুষ মরে কি সুন্দর যুদ্ধের সৈন্য হয় যায়!
দেখেছো কি অপূর্ব সারি- মৃত মানুষের!
কিন্তু এই সারি কখনো বিজয়ের পতাকা উড়াতে পারেনা।
শুধু সাহায্য করে পৃথিবীর চাকুরিতে থেকে অবসর নিতে!
অবসর নিলেই মানুষ মৃত হয়ে যায়!

আচ্ছা! মৃত মানুষ গুলোর কবরে নতুন বন্ধু হইতো?
মরা বৃষ্টি, মরা রাত্রী, সুখি, জালিম, শামীম এদের সাথে কথা হয় ?
কি খায় ওরা?
শুনেছি আধার খায়, আর্তনাদ খায়, কান্না খায়, কাকুতি মিনতি খায়!
আমিও খাব! কেউ দিবে?
জানো এদের জন্য খুব কষ্ট হয়
যেমন কষ্ট হয় স্বপ্ন ভঙ্গের রাতে-
সাদা মেয়েটির মত!

কবরের তো কোন কনক্রিটের ছাদ নেই
বৃষ্টি এলে ভিজে, বন্যা এলে ভাসে
কি অদ্ভুত তখন শরীর উঠে দাঁড়ায় না
সাহায্যের আশা করেনা
এগিয়ে আসেনা জাতিসংঘের ত্রাণ তহবিল
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কোন লোক
কারণ ওরা মানুষ নয়; মৃত!

কোন এক বর্ষার সন্ধ্যায়
বৃষ্টিতে ভিজে ভাঙা কবরের কাছে এসেছিলাম
দেখেছিলাম বিদ্যুতের আলোতে কংকালের নগ্ন শরীর
কি যেন বলতে চেয়েছিল;
বৃষ্টির শব্দে কিছু শুনতে পাইনি।

কিন্তু কষ্ট দেখেছিলাম
সেই সাদা মেয়ের মত
ওরও একটা স্বপ্ন ভেঙেছিল মৃত্যুতে।

সেই থেকে বুঝেছি কুকুরের ডাক
বিড়ালের শব্দ সাপের ফিস ফিস আর সাদা মেয়ের চোখ!
মরে গেলে কেউ ভিজতে চাইনা।
ভেবেছি তাই মঙ্গলে যাব
মঙ্গলের আকাশে কোন বৃষ্টি নেই!

তাই এই মাসেই অংকটা কষেছিলাম;
খরচটা কত হবে?
মরতে চাই; মরতে কোন খরচ নেই!
মেয়েটির কান্নায় ক্লান্তি এসেছে;
আমার চোখেও
অদেখা কুকুরটা তখনো ডাকছে.........

১৭ সেপ্টোম্বর, ২০১৪

শুভযাত্রী

ভোর ৬ টায় ঠিক ঘুম ভাঙবে
মৃত্যুর সংবাদ ঠিক সেদিনই শুনবে
১০ বছরের জমে থাকা কষ্ট
সেদিন দৌড়ানিতে থেমে যাবে
কাফনে মোড়ানো শরীরে দেখবে
বেঁচে থাকায় দারুন হাহাকার!

আমাদের স্বপ্ন বোনা জমি
সেদিন ক্ষুধা নিয়ে তাকাবে
জলের আস্তরণে শরীর বরফ হয়ে যাবে
বিক্রিয়ার স্বাধীনতা তুমি সেদিন দেখবে
অশেষ পরিণতি তোমার শতবছরের আবিষ্কার
সব! সব দাঁড়িয়ে যাবে, গান শুনবে_ বিদায়ী গান!

শতাব্দীর শেষের দিকে যখন গ্রহণের প্রশ্নটাই হেসেছিলে
কি ভেবেছিলে তখন? নক্ষত্র গুনলে বেঁচে যাবে!
তোমার টেলিস্কোপ ভর্তি দূর_ দূর সব সম্ভাবনা
মাইক্রোস্কোপে দেখা ভেনিস অথবা হেক্টরের ইতিহাস
শেষ পরিণতি কি দেখেছিলে? বেহুলার মরণ!

কি অদ্ভুত! মাটিতে শুয়ে দিলে আকাশে পৌঁছে যাব
তোমার কোটি হর্স পাওয়ারের রকেট তা পারবে না
আমায় একবার ছেড়ে দাও, আমি ভাল থাকবো
তোমার ল্যাবে, টেলিস্কোপে অথবা তোমার মনে
আমি ভাল থাকবো বরফের কবরে!

তবে আজ কেন ভাবছো? উঠে দাঁড়াও ভাঙা মানুষ
আমি মৃত্যু দিয়ে বানিয়ে দিয়েছি যোদ্ধার পোষাক!
তবে আজ কেন রাতে কাঁদছো? ভেঙে দাও সব অতীত
আমি, তোমরা একই শুধু মাঝে ঝুলে আছে একটি দেয়াল!

Sunday, July 19, 2015

রূপকের মেয়েগুলি

জন্মের সময় কেউ ছিল না, আজও কেউ নেই
বিশ বছর আগে আমি ছিলেনা, তুমিও;
লক্ষ বছরের মরা নিঃচিহ্ন, একদিন আমিও।

মৃত বাঁচে এপিটাফে
মানুষ তবে কিসে?
একশ বছর ধরে বেঁচে আছি
লক্ষ বছরের আগাম মৃত্যুতে!

হঠৎ আকাশে জ্বলবে না একটি ও তারা
বাংলাদেশের লোডশেডিং থাকবে বলে
হঠৎ করে কাকন বাজবেনা
কোন ডালে বসে পেঁচিটাও ডাকবেনা
আহা! নিকাতের চার বছর
সুন্দর ছিল খাচায় বন্দি মুয়ুর
বড্ড কাঁদবে শ্যামলা রঙ্গের জোছনা
ছায়া সামনে দাঁড়াবে বলে।

সবি থাকবে, কিছু হারাবেও
আমি হারিয়েও থাকবে আমার সবই
হইতো ধুলো পড়া এপিটাফে;
কারও চোখের জলে!

Saturday, July 18, 2015

অচিন স্বপ্ন (Lyric)

দূর আকাশে যায় হারিয়ে
বহু দূর, বহু দূরে
তোমাকে খুঁজি অচিনপুরে।।

কেরাস:১
মেঘ ঝরাইরে, রিমঝিম বৃষ্টি
সূর্যের আলো রে, কত যে মিষ্টি

তার চেয়েও মিষ্টি তোমার ভালবাসা
এসো তুমি বুক মাঝারে।

কেরাস:২
স্বপ্নের ভিতরে, আমরা দু'জনে
ভেসে যাব রে, নীল আসমানে

মেঘের মাঝে গড়ব প্রমের নীড়
এসো তুমি অচিনপুরে।


কথা ও সুর: মুরশালিন
ব্যান্ড: ভিনদেশী
পরিচালনা: পারভেজ

Friday, July 17, 2015

বিক্ষত যোদ্ধা

আজকাল বেশ উষ্ণতা অনুভব করছি
তোমার নিরিবিলি বিকাল, শান্ত উঠোন
ধোঁয়াটে রেস্তোরায় কাটানো সময়
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তোমার আমার ভালবাসা!

দু'ধারের শোক কখনো হানা দেয় না; তা কিন্তু নয়
রোজ ছপছপে হয়ে ভিজে যাচ্ছি
কিছু শোক তো না চাইলেও আসে, তাই মেনে নিয়েছি!
তুমিও মেনে নিও, অগ্নিদগ্ধ সন্ধ্যা
কান্নার আগামী, অপেক্ষার তিক্ততা!

তুমি পারবে না নিজেকে না ভেঙে রাখতে?
রক্তাক্ত কান্না কিছু সময়ের জন্য থাকে
মৃত্যুর শোক খুব জোর কিছুদিন!
আর আমি তো বেঁচে আছি,
প্রতি মুহূর্তে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে
জানি যুদ্ধের ময়দানে এ স্বপ্ন মানায় না
কিন্তু কি করবো বল? 
ঠাসা ঠাসা বারুদের গন্ধে তোমার গন্ধ লেগে
রক্তজলে ভর্তি ব্যাংকারে ডুবানো পায়ে
যে শূন্যতার শব্দ দেখেছি
সেখানেও তুমি আর তোমার কান্নারা!

Thursday, July 16, 2015

স্বপ্ন পরাজিতা

যতটা না রাত বেঁচে ছিলাম
তারও চেয়ে বেশি আঁধার খেয়েছি
একদিন দাঁড়িয়ে নিঃশেষ হয়েছি
গাঁড় কষ্টে সিগারেটের শেষ অংশ অমৃত;
লাগে তোমার প্রস্থান।
ভুল ছিল সব?

স্বপ্ন নিয়ে জমানো মঙ্গল গ্রহ
ঠিকই চোখে পড়েছিল
আয়নায় পুরনো ফাটল
আজ চোখে পড়ছে না।
উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্য দুঃখ
কি নাম দেব?
প্রেমের বিচ্ছেদ হলে,
সম্পর্কের ঘাটতি হলে,
হেরে যাওয়া মানুষ বলা যেত;
আমি তো অমানুষ!

আমি বিকালের হারিয়ে যাওয়া রোদ
শুকনো, রুগ্ন এক জীবন।
আমি কবির ছিড়ে ফেলা পাতা
সমাজের তাচ্ছিল্য বস্তু;
বেকার যুবক যুবতি।
যে জীবন কথা বলে না
যে জীবন সশব্দে চলে না
খোলা প্রান্তরে মুক্তি বোঝেনা,
যে জীবন মুক্ত বন্দিশালা
যে জীবন বঞ্চনার উপমা
আমাদের স্বপ্নদোষ!

আমি এক নষ্ট রাত্রিচরী
শেষ কবিতারা গিলে সহজে।

Wednesday, July 15, 2015

প্রত্যাবর্তন

কোন একদিন রাতে
তুমি এসে দাঁড়াবে
তোমার বিকেলের গল্প শোনাতে
কোন এক সকালে
ঘুম চোখ নিয়ে
আসবে ফিরে অঝর কান্নাতে।

অভিমান কমে যাবে
খরস্রোতা দু'চোখে; আমার তখন
গহিন স্বপ্নবাসে
সকাল ছুঁয়ে রোদ মেলাবো
আঁধার সাজাবো শিশু হাসিতে
সেদিন তুমি আসলে!

সেদিন....... সে কবে?

সেদিন মল্লিকার সুবাসে
স্বপ্ননী হেসেছিল
কেঁদেছিল কারও দু'চোখ
ফাঁকা কলনীর বুকে, একা
সুখ এঁটেছিল কেউ
দেখেছিল, স্মরণীর শোক!

সেদিন হাজারো রাত্রীর আকাশে
চাঁদনী বেঁচেছিল
ছুঁয়েছিল কারও স্বপ্ন
রাস্তার মোড়ে পাতানো, চোখে
ধুয়েছিল শরীর কেউ
বলেছিল, আমায় চেনো?

সেদিন প্রশ্নের পরশে
আগামী ভেঙেছিল
ভুলগুলো ভুলেছিল সবে
দীর্ঘদিনের একাকীত্বটা বেড়েছিল, তখন
বলেছিল, ফিরবো কোনদিন;
সেদিন.............. সে কবে?

Sunday, July 12, 2015

বিবর্ণ সমাধান

নিজের ভেতর এখন বেশ হাওয়া বয়
রাত নেই, দিন নেই বেশ ফুরফুরে মেজাজ
আমাদের সকালে এক কাপ ভালবাসা, ছিল...
পালিয়ে আসা ইচ্ছে
কোনদিন ফেরেনা
ঘুরে দাঁড়ানো মুখ
করুণা করেনা!

এ নিয়ে অনেকবার বলেছি
শক্ত হাতে বলেছি, এসো
সাদা সকালে রক্ত গোলাপে
তোমার সব ভরিয়ে দেব, এসো
নিঝুম শান্ত দু'বেলা দেখা
খুব বেশি ছিল না
গভীরতম পুরাতন স্বর্গ
আমাদের পিছনের বাগান!
সন্ধ্যার নিশ্চুপ কালো
আমাদের আবেগঘন করে তুলতো, 
সে জোড়া আমগাছ!

বড় বড় ক্লান্ত রোদ
ফিরে আসত রোজ
তোমার আমার মত
তবে আজ কেন না থাকার প্রশ্ন?

কি ছিল আর কি ছিল না
এ নিয়েই তো জীবন!
অযথা প্রশ্ন না করাই ভাল
বোকা-সোকা প্রশ্নেরা,
কখনো বাস্তববাদী হয় না!
উষ্ণতার যে আকাশ
সেখানে রোদ হবে
তৃষ্ণায় বুক খাবে
নিঙড়ানো শব্দের মত।

আশা আর নিরাশার মাঝেই,
মানুষ বসবাস করে
তুমি, আমি বা অন্য যে কেউ!
তবে, সকলে কি নই? 
কারও জীবন শোকহীন হয় না
সুখ-দুঃখ শব্দদ্বয়ের সংমিশ্রণে
গড়ে ওঠে একটি সংসার
তবে, শুধু কি সুখই নিবে?

হাত ধরে বলেছিলে,
সব শোক ভাষাহীন হয়
এখন, আমারটাই বা কম কিসে?

Wednesday, July 8, 2015

শেষ প্রশ্ন?

শেষ কবে কবিতা লিখেছি?
নত আঙুলে, নীল কলমে
সবুজ পাতায়, মনে নেই।
ভাগ্যিস তুমিও নেই!
নইতো রোজ কবিতা লেখার ঝামেলা;
রোজ নতুন অভিজ্ঞতা ফিনিক বেদনা
আমার জন্য ভালই হয়েছে।
শোক নেই, বিশাক্ত স্মৃতি নেই
সেই চাঁদের হাসি খানাও নেই
মানে তোমার হাসি!

শেষ কবে বিকেলে হেঁটেছি
পথ মেপে, গিরিখাত
পাহাড় চূড়ায়, মনে নেই।
ভাগ্যিস তুমি নেই;
নইতো রোজ টি-শার্টের জন্য চিন্তা
পুরনো জুতার দুর্গন্ধের জন্য চিন্তা
তোমার জন্য ভালোই হয়েছে;
অপেক্ষা নেই, মাথায় রোদ নেই
রাতের জন্য কোন ভয়ও নেই
সাপ, বিচ্ছুর ভয়।

শেষ কবে রাত গুনেছি
সুক তারা, সাত তারা দেখে
মাঝ রাতে, মনে নেই।
ভাগ্যিস তুমি নেই;
নইতো তোমার গানের জন্য আব্দার
লুকোচুরি খেলার জন্য রাগ অভিমান
আমার জন্য ভালোই হয়েছে;
খেলতে নেই, মিথ্যে বলতে নেই
আবার তোমাকে হারাবার ভয়ও নেই
অন্য খানে, অন্য জগতে!

শেষ কবে আগস্টের রাতে হেঁটেছি
জোছনা মেখে, স্বপ্ন শহর ভেবে
ভেজা ঘাসে, মনে নেই।
ভাগ্যিস তুমিও নেই;
নইতো তোমার ছলনাকর পায়ে ব্যথা
দুষ্টু সুলভ কাঁধে ঘুমিয়ে পড়া
এখন এখানে এ সব নেই
তুমি নেই, সেই পৃথিবী নেই
তোমার চোখে দেখা সে জোছনা নেই
সে জীবনও নেই!

অনেক বছর কেটে গেছে
আমি ভাল আছি। এই যে দেখ
আমার ছিলে যাওয়া মাংস গুলো নেই
যে গুলো দেখে তুমি কেঁদেছিলে
ওগুলো পচে নষ্ট হয়ে গেছে
খটখটে অস্থিমজ্জা এখন;
পোকামাকড়ের নিত্যদিনের খাবার
তুমিই একদিন আমায় খেতে চেয়েছিল
অথচ আজ দেখ!

এখানে রাত মানেই দিন
তাই ঘুমাতে হয় না
তৃষ্ণা মিটাতে হয় না
খাবার খেতে হয় না
কারও জন্য ভাবতেও হয় না
শুধু নিজের জন্য ছাড়া
এখান আমরা সবাই খুব স্বার্থপর
তবুও বেশ চলে যায়।

মাটির ঘরটা ইদানীং ভাবাচ্ছে জানো
বর্ষার পানিতে ভিজে গেছে
সেদিন দেখলাম;
এপিটাফটা বেশ পরিষ্কার
১৭৯৬ লেখাটা ঝকঝকে
প্রথম কয়েক মাস এসে হাত নেড়ে দেখতে
এখন আসো না। ও গুলোই শেওলা জন্মেছে;
জন্মেছে তোমার আকাশেও!

শেষ কবে হেসেছো
অশ্রু চোখে, ভাঙা অভিমানে
মনে আছে? শেষ কবে?
জানি মনে আছে;
সেই শেষ রাতে, যখন কেঁদেছিলে
মৃত্যুলোকে আমাকে যেতে দেখে
সে থেকে বদলে গেছে অভিমান
বদলে গেছে তোমার হাসি চোখ
বয়স বেড়েছে, বুড়ো হয়েছো
চেয়ে আছো, মৃত্যুমুখে!
আমিও...........

ফ্লোমিলা অনুশীলন

আমি বাঁচতে পারি একটু একটু করে
দীর্ঘশ্বাস আমার হাসির অক্ষর
ব্যর্থতা সে এক নতুন নেশা!
আমি বাঁচতে পারি খুব অল্প করে
শত শত রাতে খুঁজি একটি ভোর
অবেলার যুদ্ধে আঁকি রক্ষী রণদোর।

প্রত্যেকদিন বাঁচি প্রত্যেকদিনের জন্য
প্রতিটি নিঃশ্বাস সে প্রেরণার উৎস
হেরে যাওয়া মানুষের সমাধি দেখে
যুদ্ধ ফেরত ভাঙা মানুষের চোখ দেখে
আমি বাঁচতে শিখেছি অনেক আগে!

আহত যন্ত্রনা যখন হাসিমুখ ছুঁই ছুঁই
নিকোটিন, ফসফরাসের আলোতে জ্বালিয়ে নিই
বাড়তে থাকা বাস্তব পৃথিবী বিক্ষিপ্ত সব অধ্যায়
ফ্লোমিলার অনুশীলনে সব পেছনে রেখে আগাই!

আমি যোদ্ধা ধূসর মরু প্রান্তরে
নিজেকে বাঁচাই ইতিহাস অনাহারে!

কেয়ামত আসবে

সেদিন তোমার রূপ যৌবন দেখাবে কাকে
সবাই তো পথ ভুলে ছুটবে দিকে দিকে
মিথ্যার আশ্রয় সবে নেবে তখন কোথায়
চারিদিকে দেখবে শুধু মৃত্যুর জয় ধ্বংসের জয়

মাতৃ স্নেহ বলবে না খোকা একটু বস,
কেউ নও আমার যাও দুরে ভাগো
বিস্তৃত আকাশ বিকৃত জনপদ ভাঙবে সবি ধেঁয়ে আসবে বিশাদ

সিংগার ফুৎকারে মহা মানচিত্র মিসে যাবে
জানো কি তুমি কেয়ামত আসবে?!