Showing posts with label Storys. Show all posts
Showing posts with label Storys. Show all posts
Sunday, May 7, 2017
Wednesday, June 8, 2016
সংকোচবোধ: মা এবং আমরা কিংবা আমি
সংকোচ বোধ কি পাপবোধের চাইতে ভাল? পাপ মানুষকে পিড়া দিলে সংকোচবোধ কি দেয় না? পাপবোধের মত সেও তো পরিচিত মানুষের থেকে দুরে দুরে থাকতে চায়! পালাতে চায়, নিজেকে ছোট করে দেয়! মাঝে মাঝে নিজের প্রতি খুব রাগ হয়। ঠিক নিজের প্রতি না, বলতে পারেন মায়ের প্রতি! হ্যাঁ আমি তার কথায় বলছি, যে বমি করার মত করে পেটের আবর্জনা পরিষ্কার করে আমায় উগলে ফেলে বুকের স্তনের বাটে মুখ দিতে দিয়েছিল কোন সংকোচ ছাড়ায়! জীবনের প্রথম দিন যেই আমার সেখানে কোন সংকোচ নামক শব্দের অস্তিত্ব ছিল না, সেই আমারই আজ আমার অলীক অস্তিত্বে দীর্ঘতম অযাচিত সংকোচ, বেড়ে চলেছে।
বলছিলাম- বাবার প্রতি রাগ হয়, মায়ের প্রতি খুব রাগ হয়- যখন বুঝতে পারি অন্যের পিতামাতাকে সাহায্য করতে কোন সংকোচবোধ নেই, কিন্তু তৃষ্ণায় কাতর সন্তানকে ঝুলে পড়া স্তন মুখে তুলে দেওয়া, সম্পূর্ণ অক্ষম সন্তানকে সংকোচ বিহীনভাবে কোলে তুলে নেওয়া সেই পিতামাতাকে একটু সাহায্য করতে সংকোচবোধ হয়!
মায়ের প্রতি রাগ হয়- যখন বুঝতে পারি অন্যের সেবা কিভাবে করতে হয় তা জানি কিন্তু নিজ মায়ের সামন্য সেবা কিভাবে করতে হয় তা অজানা। এটাও কি সংকোচ বোধ?
মায়ের প্রতি তখনই খুব রাগ হয়, খুব!- যখন বুঝতে পারি অন্যের কাছে ক্ষমা কিভাবে চাইতে হয় সে শিক্ষা পেয়েছি কিন্তু মায়ের কাছে কিভাবে ক্ষমা চাইতে হয় সে শিক্ষা মা কোনদিন দেয় নি!
তখনই মায়ের প্রতি রাগ হয়- যখন শিক্ষিত, মার্জিত, ভদ্র আচরণ একটা ছোট কুকুরের সাথে কি ভাবে করতে হয় তা জানি কিন্তু মায়ের সাথে কিভাবে করতে হয় তা জানি না।
তখনই মায়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করতে বাধ্য হয়- যখন এক থাল খাবার এনে বলে- বাবা! খেয়ে নে কিন্তু নিজে কখনো তার জন্য বিন্দু পরিমাণ শান্তুনা নিয়ে গিয়ে বলতে পারি না- মা! এটা খেয়ে নে!!!
তখনই মায়ের অস্তিত্বকে ছুড়ে ফেলি- যখন অন্যেকে কানায় কানায় ভালাবাসার শিক্ষা সেই মায়ের কাছেই পেয়েছি কিন্তু মাকে ভালাবাসার শিক্ষা একটুও পাইনি!
স্বার্থসিদ্ধিলাভকৃত মায়ের মুখে বলতে শুনেছি অনেকদিন অনেকবার- আল্লাহ্কে ভালবাস, মানুষকে ভালবাস, অন্যকে ভালবাস, ভালবাস রাস্তার ঐ কুকুরটাকে কিন্তু আজ অবদি আমার মত পরহীত, স্বার্থহীন, সু-শিক্ষিত কোন সন্তান, কোন কালে শোনেনি- হে আমার সন্তান, আমার বাবা- একবার আমায় ভালবেসতো (!) নিজ মাকে ভালবেসতো!
এই পর্যায়ে এসে যখন আমি শিক্ষিত, রুচিসম্মত, ভদ্র ও সবজান্তা একজন মানুষ, তখনও সংকোচবোধ হয়, মায়ের প্রতি রাগ হয়- খাবার টেবিলে, চায়ের কাপে, ঘুমাতে, রাস্তায়, একাকিত্বে, অফুরন্ত দুঃখের মাঝে! সুখে কি আর মায়ের কথা মনে থাকে! (?)
দীর্ঘকাল ধরে ভাবছি এতশত সংকোচবোধে আক্রান্ত হয়ে লাভ আছে? এটা কি ভালোত্ব, খারাপোত্ব নাকি অর্থহীন? সংকোচবোধ কি উপরোক্ত বিষয়েই থেমে আছে? আজকাল আমার সাথীর সাথে আমারই আরেক সাথীর কলোহ হলে সেই সাথীদ্বয়ের মাঝে উভয়ের কথা উঠাতে সংকোচবোধ হয়! কোন পরিচিত মুখ দীর্ঘ বনবাসে উজ্জল হয়ে উঠলে নিজে আলোহীন রয়ে গেছি বলে সেখানে সংকোচবোধ হয়। সংকোচবোধ হয়- শত্রুর জলযুক্ত যুগল মুছে দিতে না পারা। মায়ের? সেতো এক অযাচিত সাফল্যের পুরুষ্কার! আজকাল সংকোচবোধের একেকটা শাখা তৈরি হচ্ছে, তার থেকে প্রশাখা। এভাবে জীবনে পাপ ছাড়াও পাপের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে!
অনেকে প্রশ্ন করে মানুষ কত প্রকার? এর সোজা উত্তর “পৃথিবীর মানুষ যতগুলো ঠিক ততগুলোই মানুষের প্রকার!”
কথা হল- সংকোচবোধ তবে কত প্রকার? আমি ভাবতে বসলাম। মানুষের ডিএনএ’র মত যদি মানুষের সংকোচবোধ হয় তবে তো, একেক মানুষ একেক সংকোচবোধে রোগাক্রান্ত! বড় সমস্যার বিষয় এটি। যে বোধের চিকিৎসা নেই, সেটা এভাবে প্রকট আকার ধারণ করে থাকলে তার ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয় নি। নাকি এটা এইডস কিংবা ক্যান্সারের চাইতে কম কিছু। আমার তা মনে হয় না। একদা, কুষ্ঠ রোগ আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্ষে কেউ আসতো না। কিন্তু এখন তো সংবোচবোধের কারণে পাশে থেকে মুখ লুকিয়ে থাকতে হয়। কথা না বলে সময় কাটাতে হয়!
জানো! আমার মানে আমি মাঝে মাঝে ভাবি এটা কি আমার ব্যর্থতা? এই যে বাবা-মায়েে সেবা না করতে পারা, সংকোচবিহীন জায়গাগুলোতে সংকোচবোধ করা ইত্যাতি। নাকি আমার শিক্ষার অভাব। নাকি এটা বাবা মায়ের ভুল কিংবা ব্যর্থতা!! হতে পারে। কেননা, শিশুতে ডান হাতে খাওয়ার শিক্ষা দিলে সে ডান হাতেই খায়, বাম হাতে দিলে বাম হাতেই খেতো! তেমন ধরো, এই সংকোচবোধেরও একটা শিক্ষা দরকার ছিল। শিক্ষা দরকার ছিল নিজ পিতামাতাকে ভালবাসার। তারা সে শিক্ষা না দিয়ে কিভাবে আশা করে নিজ সন্তানের ভালবাসা?
নাহ! ভাবনাটা ঠিক নয়। এটা নিজেকে দোষমুক্ত করা। পাপ করে বলা- আমি পাপ করিনি! পাপ করলে মানুষ পাপ মুক্তির উপায় খুজে! আমিও কি তবে খুজছি? (!) হতেও পারে...... সংকোচবোধ একটা পাপ! ভেতরের অদৃশ্যতা যখন বেরিয়ে আসতে চায়, তখন সেই অদৃশ্যতা অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই আমি আর আমরা একই পাপে বাধিত। একই সংকোচবোধে আক্রান্ত। মায়েরাও হয়তো বলে- যে সন্তানের উলঙ্গ দেহ ছুতে কোনদিন সংকোচবোধ করিনি, সেই সন্তান যখন আবৃত সবকিছুর দ্বারা তখন যেন মন খুলে “খোকা ঘুমালো, পাড়া জোড়ালো” গাওয়া হয় না। বলা হয় না- বাবা! বয়স্করাও তো শিশু! একটু সাহায্য কর। বলতে পারে না তারা। সেই একই কারণে। সংকোচবোধ! পিছে সন্তান যেন বেঁকে না বসে!
আমিও পারিনা, আমার সাথীদ্বয়ের আকাশে সম্পূর্ণ রূপে আলো জ্বালিয়ে এই সংকোচবোধকে ভুলিয়ে তুলতে। মায়ের এই রাতের বিষণœ চোখে হাসির আলতো আভা ফোটাতে। পারিনা বাবার পাশে শুয়ে খোলা আকাশ দেখতে। হয় না ভ্রাতার গায়ে পা তুলে একরাত ঘুমা! বলতে পারিনা সাথীদ্বয়ের- তোমরা এটা কর না। পারিনা...... পারিনা জানো (!) হাসপাতালের ছাড়পত্রের মত এই সংকোচবোধ সারিয়ে ছুটি দিতে। চিরদিনের জন্য সহজে!
Monday, August 24, 2015
বাকরূদ্ধ(গ্রামীণ কফিন)
আমি রবীন্দ্রনাথের মত উঁচুস্থানে বসিয়া সবাইকে দেখিতেছি আর হাসিতেছি! মানুষ কতটা পাগল! কতটা মূর্খ হলে সামান্য ঘটনাকে বড় করিয়া বাকযুদ্ধ করিতে পারে। ঘুম হতে উঠিয়া দৃষ্টি যুগল কচলাইতে কচলাইতে সেই যুদ্ধের সূচনা হয়। সূর্য যখন অন্তিমে গত হয়, তখনো ক্লান্ত রুগ্ন হয়ে আসা ধারালো তালোয়ারের মত অগ্নিবাক্য বিদ্ধ হয় হেরে যাওয়া মানুষের উপর। সমাজের উপর টিকটিকিরর মত মাথা মোটা মানুষ গুলো বড্ড সুন্দর কথা বলায় অভ্যস্ত! ধর্ষিতার যন্ত্রণার চাহিতে তাঁহাদের কথার যন্ত্রণা অনেক। যন্ত্রনা কত রকমের তাহারা বুঝিতেও চেষ্টা করেনা। বিষের যন্ত্রণা, ফোঁড়ার যন্ত্রনা, মৃত মানুষ স্মরণের যন্ত্রণা আরও আছে অনেক। নাম দেওয়া যায় না সবকিছুর। আমিও তাহাদের নাম না দেওয়া যন্ত্রণার কথা বোঝানোর চেষ্টা করিয়াছিলাম। তাহারা তা না বুঝিয়ায় বলিল- "সবাই সব কিছু পারেনা। তুমিও পারিবে না। তুমি "ও" হতে পারিবেনা"।
আমি রবীন্দ্র কিংবা নজরুল হতে চাই নি। আমি "আমি" হতে চেয়েছি!
আমি রবীন্দ্র কিংবা নজরুল হতে চাই নি। আমি "আমি" হতে চেয়েছি!
Wednesday, August 12, 2015
আপনজন মারা গেলে কি কষ্ট হয়?
আচ্ছা, আপনজন মারা গেলে কি খুব কষ্ট হয়? আসলে কষ্টটা কি? কষ্ট পেলে কি মানুষ কাঁদে? আচ্ছা, কষ্টটাকে কোন ভাবে মেরে ফেলা যায় না কিংবা পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া যায় না? নাকি যায়? কষ্টটা কি এমন মেরে ফেললে বা পুড়িয়ে দিলে আর ফিরে আসবে না!
গত বছর আমার বন্ধু আতিকের মা মারা গেছিল। শুনার পর থেকে আতিকের সে কি কান্না! চাবুক দিয়ে আঘাত করলে বন্দি যেরকম চিৎকার করে কাঁদে। কারও মা মারা গেলে কি সেরকম কেউ আঘাত করে? তবে দেখা যায় না কেন? সকাল বেলা দু'চোখ ফুলে মাংসের থলী তৈরি হয়ে গেছিল। বয়স কম হওয়ায় কি করবো এই ভেবেই কিছু বলতে পারিনি। মাঝে মাঝে মনে হয়েছিল, আমি কাঁদি! কিন্তু সেরকম কেউ আঘাত করেনি। সেরকম কষ্টও হয় নি।
সাইকোলজিতে একটা বিষয় আছে। মানুষের মুখ দেখে বলে দেওয়া যায় সে কিরকম আছে! আজ আমার আপন কেউ মারা গেছে। সাইকোলজির সব থিওরি দিয়ে কি আজ বলা সম্ভব, আমি কেমন আছি!
নাহ আমি কাঁদছিনা! মানুষ মরে গেলে কাঁদতে হয় এমন পৃথিবীর কোথাও নেই! কোন মানুষের মুখেও শুনিনি এমন কথা। সিগারেট নাকি কষ্ট দূর করার দারুণ ঔষধ! আপন কেউ মারা গেলে সব মানুষ সিগারেট খেয়ে দেখতেই পারে! খাটলি ধরে সবাই কাঁদা বাদ দিয়ে সিগারেট খাবে। এতে কষ্ট থাকবে না। এখন আমার কষ্ট পেলে একটা খেয়ে দেখতাম! কেমন কাজে দেয়। মানুষ বেঁচে থাকাকালীন সব পরীক্ষা করে নেয়। কাঁচা বাজারে সবজি গুলোকে ভাল করে খুতিয়ে খুতিয়ে দেখে কিনে। মানুষ খুতিয়ে দেখার কোন জিনিস আছে। খুতিয়ে দেখতাম, কোন মানুষটা জীবাণুহীন, কোন মানুষটা কতদিন বাঁচবে? সৃষ্টিকর্তা এমন বোধহয় দেন নি। দিলে আমি হিসাব করে আপনজন ঠিক করে নিতাম। ঠিক আপনজন মারা যাওয়ার একমিনিট আগে মারা জেতাম! এতে মরে যাওয়া মানুষ দেখার কষ্টটা পেতাম না। মানুষ বেঁচে থেকে স্বার্থপর হয়, আমি না হয় মরে যাওয়ার একমিনিট আগে হব!
গত বছর আমার বন্ধু আতিকের মা মারা গেছিল। শুনার পর থেকে আতিকের সে কি কান্না! চাবুক দিয়ে আঘাত করলে বন্দি যেরকম চিৎকার করে কাঁদে। কারও মা মারা গেলে কি সেরকম কেউ আঘাত করে? তবে দেখা যায় না কেন? সকাল বেলা দু'চোখ ফুলে মাংসের থলী তৈরি হয়ে গেছিল। বয়স কম হওয়ায় কি করবো এই ভেবেই কিছু বলতে পারিনি। মাঝে মাঝে মনে হয়েছিল, আমি কাঁদি! কিন্তু সেরকম কেউ আঘাত করেনি। সেরকম কষ্টও হয় নি।
সাইকোলজিতে একটা বিষয় আছে। মানুষের মুখ দেখে বলে দেওয়া যায় সে কিরকম আছে! আজ আমার আপন কেউ মারা গেছে। সাইকোলজির সব থিওরি দিয়ে কি আজ বলা সম্ভব, আমি কেমন আছি!
নাহ আমি কাঁদছিনা! মানুষ মরে গেলে কাঁদতে হয় এমন পৃথিবীর কোথাও নেই! কোন মানুষের মুখেও শুনিনি এমন কথা। সিগারেট নাকি কষ্ট দূর করার দারুণ ঔষধ! আপন কেউ মারা গেলে সব মানুষ সিগারেট খেয়ে দেখতেই পারে! খাটলি ধরে সবাই কাঁদা বাদ দিয়ে সিগারেট খাবে। এতে কষ্ট থাকবে না। এখন আমার কষ্ট পেলে একটা খেয়ে দেখতাম! কেমন কাজে দেয়। মানুষ বেঁচে থাকাকালীন সব পরীক্ষা করে নেয়। কাঁচা বাজারে সবজি গুলোকে ভাল করে খুতিয়ে খুতিয়ে দেখে কিনে। মানুষ খুতিয়ে দেখার কোন জিনিস আছে। খুতিয়ে দেখতাম, কোন মানুষটা জীবাণুহীন, কোন মানুষটা কতদিন বাঁচবে? সৃষ্টিকর্তা এমন বোধহয় দেন নি। দিলে আমি হিসাব করে আপনজন ঠিক করে নিতাম। ঠিক আপনজন মারা যাওয়ার একমিনিট আগে মারা জেতাম! এতে মরে যাওয়া মানুষ দেখার কষ্টটা পেতাম না। মানুষ বেঁচে থেকে স্বার্থপর হয়, আমি না হয় মরে যাওয়ার একমিনিট আগে হব!
Wednesday, August 5, 2015
চেতনাহীনতা
জীবনটা রোমান্টিকতায় ভাসছে।
লুসি আচারের থালা দেখিয়ে দেখিয়ে খাচ্ছে। মনে হয় সন্তান সম্ভাবনা! প্রেগন্যান্ট হলে নাকি মেয়েরা বেশি আচার খায়!
সেদিন সূর্য গ্রহণ লেগেছিল। তা দেখে চিমটি তরকারী কাঁটা বাদ দিয়ে সারাদিন শুয়েছিল। চিমটি ওর বান্ধবীর কাছে থেকে শুনেছে সূর্য গ্রহণের দিন কাটাকুটি করতে নেই। সন্তান হবার সময় নাকি সন্তান প্রতিবন্ধী হয়। আসল কথা হল- চিমটির ঋতুস্রাবই শুরু হয় নি!
গত বছর স্কুল পড়ুয়া মেয়ে জারার বিয়ে হয়েছে। ওর বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম কোলে একমাসের বাচ্চা। বাতির শিখায় অর্জুনের ছাল সেকে বাচ্চার কপালে নজর ফোটা দিচ্ছে। নজর ফোটা দিলে বাবুর রোগবালাই হবে না। জারার শাশুড়ি বলেছে - ভাই ফোটার মতই পবিত্র নজর ফোটা। ধর্মে তারা মুসলিম।
জীবনটা রোমান্টিকতায় ভাসছে।
বন্যার তিনমাস পরে বিয়ে। এখন থেকেই সে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিসের সেটা বোঝা না গেলেও এটা স্পষ্ট যে, সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে তার একটা সংসার হবে। সুন্দর সংসার। এ নিয়ে বান্ধবী আর ভাবির সাথে রোজ আলোচনা হয়।
জীবনটা রোমান্টিকতায় ভরে গেছে।
সব সময় ক্লাসে ফাস্ট হওয়া তামান্না গত অমাবস্যা রাতে গাঁজাখোর রিফাতের সাথে পালিয়েছে। কপালপোড়া বাবা-মা'র জন্য একখানা চিঠি লিখে গেছিল। সে নাকি ওকে নিয়েই সুখে থাকবে। গতকাল আমার প্রাণের বন্ধু পোল্টি বলছিল- তামান্না সুইসাইড করেছে! আমি কখন বলে সে কথা আর দীর্ঘ করিনি।
ইভার বাবা মা জামাই দেখতে খুবই ব্যস্ত। গত পাঁচ বছর ধরে এই কাজই করে যাচ্ছে! সাধারণ দশটা মেয়ের মতই পড়ালেখা জানা, সুন্দর, সুস্থ মেয়ে ইভা। শুধু গায়ের রঙ কালো বলেই কপালে একটা ছেলে জুটলো না। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে মরে যেতে। যতবার চেয়েছে ঠিক তখনই সৃষ্টিকর্তার কথা মনে পড়েছে- আত্বহত্যা মহাপাপ।
কলেজ জীবনের শেষদিকে একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল। নামটা মনে করতে পারছিনা। ফেসবুকের নামটা মনে আছে, এঞ্জেল প্রিন্সেস! ফেসবুকে ম্যাসেজের উত্তর না দেওয়ার জন্য নাকি কয়েকজন দ্বারা ধর্ষণ হয়েছিল! মানুষ কত সুন্দর না¿ অধিকার আদায়ে অবিচল সবসময়।
সবে আঠারতে পা দেওয়া তিশা স্বামীর ঘর ছেড়েছে একবছর হল। রোজ জানালা দিয়ে আকাশে মেঘে ঢাকা চাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবে "আমার জীবনটাও এমন মেঘে ঢাকা"। কিন্তু কয়দিন পরে পাড়ার যোয়ান ছেলে হৃদয়ের সাথে পালানোর কথা ভাবছে।
চাঁদের মত একা বেশিদিন থাকা যায় না। পারেনা মানুষ একা বাঁচতে। মা হারা বিড়ালের মত ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদে দীর্ঘবছর পার করলেও একসময় আর পারেনা। কচ্ছপের মত খোঁজে সমুদ্রের তীর! খাবার আর আশ্রয়। মানুষ কত কিছুই খায়। কত জায়গাতেই তো আশ্রয় নেয়। খাবারের সাথে জীবানু খায়, খায় কত অভিমান! ইট থেকে পলিথিনের ঘরেও মানুষ আশ্রয় নেয়। নেয় কত মানুষ কত মানুষের বুকে! মানুষের বুক গুলোও প্রকৃত ঘরের মত সুন্দর, ফুটো ফাটা, বিশ্রী হয়।
শেষ আরেকটা মেয়ের কথা মনে পড়ে। হ্যাঁ, বান্দরবনের পাহাড়ী মেয়ে। ভাল লেগেছিল যতদিন ছিলাম! বাসায় আসার পর আর মনে ছিলনা। কয়েকমাস পর একটা চিঠি এসেছিল। ভাঙা ভাঙা শব্দে লেখাছিল- আমি চাঁদ দেখি রোজ। কথাটার মানে এখনো বুঝিনি!
আলাদীনের চেরাগের ভিতরেই কেটে যায় প্রত্যেক মেয়ের জীবন। কয়েকজন এর বাইরে বের হলেও হেরে যায় নিজের কাছে। আগষ্টের চাঁদে নিজেকে যখন মেলে ধরে দূর্গন্ধযুক্ত পশম ওয়ালা কারও বুকে।
কিছুক্ষনের জন্য হয়তো সব ভুলে যায়। তারপর অন্ধকারে শেকলে জড়িয়ে তাকিয়ে থাকে সেই চাঁদের দিকে! আশ্রয়হীন জঞ্জাল পশুর মত জীবন শুধু চেয়ে দেখার জীবন। আশা আর নিরাশার মাঝে থাকতে থাকতে হাঁটু ভেঙে সব মেনে নেয়। জীবনের গহব্বরে ডুবতে ডুবতে কিনারায় ঠায় নেয় তখন কতিপয় লোক বেজন্মা বেশ্যা বলে সুনামে লিপ্ত হয়। তারা কখনো প্রশ্ন করে বসে না- আচ্ছা পুরুষ বেশ্যা হয় না! মেয়েদের শরীরের প্রতিটা অংশের দোষ খুঁজতে খুঁজতে কিছুই যখন আর বাকি থাকেনা তখন আটকিয়ে দেওয়া হয় নিয়মের রক্ষার্থে। পুঁটি মাছের মত জীবনকে নিয়ে খেলতে বোয়াল মাছের বড় ভালই লাগে। তারাও খেলে আলোর সাথে, আঁধারের সাথে, নিয়মের সাথে, সৃষ্টির সাথে, আর আকাশের চাঁদের সাথে। তাদের সবাই ফেলিয়ে দিলেও চাঁদ কখনো ফেলিয়ে দেয় না। তাই জানালা দিয়ে তাকিয়ে চাঁদের সাথেই কথা বলে মানুষের সাথে নয়।
লুসি আচারের থালা দেখিয়ে দেখিয়ে খাচ্ছে। মনে হয় সন্তান সম্ভাবনা! প্রেগন্যান্ট হলে নাকি মেয়েরা বেশি আচার খায়!
সেদিন সূর্য গ্রহণ লেগেছিল। তা দেখে চিমটি তরকারী কাঁটা বাদ দিয়ে সারাদিন শুয়েছিল। চিমটি ওর বান্ধবীর কাছে থেকে শুনেছে সূর্য গ্রহণের দিন কাটাকুটি করতে নেই। সন্তান হবার সময় নাকি সন্তান প্রতিবন্ধী হয়। আসল কথা হল- চিমটির ঋতুস্রাবই শুরু হয় নি!
গত বছর স্কুল পড়ুয়া মেয়ে জারার বিয়ে হয়েছে। ওর বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম কোলে একমাসের বাচ্চা। বাতির শিখায় অর্জুনের ছাল সেকে বাচ্চার কপালে নজর ফোটা দিচ্ছে। নজর ফোটা দিলে বাবুর রোগবালাই হবে না। জারার শাশুড়ি বলেছে - ভাই ফোটার মতই পবিত্র নজর ফোটা। ধর্মে তারা মুসলিম।
জীবনটা রোমান্টিকতায় ভাসছে।
বন্যার তিনমাস পরে বিয়ে। এখন থেকেই সে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিসের সেটা বোঝা না গেলেও এটা স্পষ্ট যে, সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে তার একটা সংসার হবে। সুন্দর সংসার। এ নিয়ে বান্ধবী আর ভাবির সাথে রোজ আলোচনা হয়।
জীবনটা রোমান্টিকতায় ভরে গেছে।
সব সময় ক্লাসে ফাস্ট হওয়া তামান্না গত অমাবস্যা রাতে গাঁজাখোর রিফাতের সাথে পালিয়েছে। কপালপোড়া বাবা-মা'র জন্য একখানা চিঠি লিখে গেছিল। সে নাকি ওকে নিয়েই সুখে থাকবে। গতকাল আমার প্রাণের বন্ধু পোল্টি বলছিল- তামান্না সুইসাইড করেছে! আমি কখন বলে সে কথা আর দীর্ঘ করিনি।
ইভার বাবা মা জামাই দেখতে খুবই ব্যস্ত। গত পাঁচ বছর ধরে এই কাজই করে যাচ্ছে! সাধারণ দশটা মেয়ের মতই পড়ালেখা জানা, সুন্দর, সুস্থ মেয়ে ইভা। শুধু গায়ের রঙ কালো বলেই কপালে একটা ছেলে জুটলো না। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে মরে যেতে। যতবার চেয়েছে ঠিক তখনই সৃষ্টিকর্তার কথা মনে পড়েছে- আত্বহত্যা মহাপাপ।
কলেজ জীবনের শেষদিকে একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল। নামটা মনে করতে পারছিনা। ফেসবুকের নামটা মনে আছে, এঞ্জেল প্রিন্সেস! ফেসবুকে ম্যাসেজের উত্তর না দেওয়ার জন্য নাকি কয়েকজন দ্বারা ধর্ষণ হয়েছিল! মানুষ কত সুন্দর না¿ অধিকার আদায়ে অবিচল সবসময়।
সবে আঠারতে পা দেওয়া তিশা স্বামীর ঘর ছেড়েছে একবছর হল। রোজ জানালা দিয়ে আকাশে মেঘে ঢাকা চাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবে "আমার জীবনটাও এমন মেঘে ঢাকা"। কিন্তু কয়দিন পরে পাড়ার যোয়ান ছেলে হৃদয়ের সাথে পালানোর কথা ভাবছে।
চাঁদের মত একা বেশিদিন থাকা যায় না। পারেনা মানুষ একা বাঁচতে। মা হারা বিড়ালের মত ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদে দীর্ঘবছর পার করলেও একসময় আর পারেনা। কচ্ছপের মত খোঁজে সমুদ্রের তীর! খাবার আর আশ্রয়। মানুষ কত কিছুই খায়। কত জায়গাতেই তো আশ্রয় নেয়। খাবারের সাথে জীবানু খায়, খায় কত অভিমান! ইট থেকে পলিথিনের ঘরেও মানুষ আশ্রয় নেয়। নেয় কত মানুষ কত মানুষের বুকে! মানুষের বুক গুলোও প্রকৃত ঘরের মত সুন্দর, ফুটো ফাটা, বিশ্রী হয়।
শেষ আরেকটা মেয়ের কথা মনে পড়ে। হ্যাঁ, বান্দরবনের পাহাড়ী মেয়ে। ভাল লেগেছিল যতদিন ছিলাম! বাসায় আসার পর আর মনে ছিলনা। কয়েকমাস পর একটা চিঠি এসেছিল। ভাঙা ভাঙা শব্দে লেখাছিল- আমি চাঁদ দেখি রোজ। কথাটার মানে এখনো বুঝিনি!
আলাদীনের চেরাগের ভিতরেই কেটে যায় প্রত্যেক মেয়ের জীবন। কয়েকজন এর বাইরে বের হলেও হেরে যায় নিজের কাছে। আগষ্টের চাঁদে নিজেকে যখন মেলে ধরে দূর্গন্ধযুক্ত পশম ওয়ালা কারও বুকে।
কিছুক্ষনের জন্য হয়তো সব ভুলে যায়। তারপর অন্ধকারে শেকলে জড়িয়ে তাকিয়ে থাকে সেই চাঁদের দিকে! আশ্রয়হীন জঞ্জাল পশুর মত জীবন শুধু চেয়ে দেখার জীবন। আশা আর নিরাশার মাঝে থাকতে থাকতে হাঁটু ভেঙে সব মেনে নেয়। জীবনের গহব্বরে ডুবতে ডুবতে কিনারায় ঠায় নেয় তখন কতিপয় লোক বেজন্মা বেশ্যা বলে সুনামে লিপ্ত হয়। তারা কখনো প্রশ্ন করে বসে না- আচ্ছা পুরুষ বেশ্যা হয় না! মেয়েদের শরীরের প্রতিটা অংশের দোষ খুঁজতে খুঁজতে কিছুই যখন আর বাকি থাকেনা তখন আটকিয়ে দেওয়া হয় নিয়মের রক্ষার্থে। পুঁটি মাছের মত জীবনকে নিয়ে খেলতে বোয়াল মাছের বড় ভালই লাগে। তারাও খেলে আলোর সাথে, আঁধারের সাথে, নিয়মের সাথে, সৃষ্টির সাথে, আর আকাশের চাঁদের সাথে। তাদের সবাই ফেলিয়ে দিলেও চাঁদ কখনো ফেলিয়ে দেয় না। তাই জানালা দিয়ে তাকিয়ে চাঁদের সাথেই কথা বলে মানুষের সাথে নয়।
Subscribe to:
Posts (Atom)

