Thursday, August 25, 2016

অন্ধচোখ

ধেয়ে আসে স্মৃতি
ধ্বংস প্রাপ্ত জীবনে
নিথর দেহে বাঁচার আকুতি
কে জাগাবে তোমায়?

মরতে চাওনি তুমি
ধর্ষিত মাঝে রাতে
কষ্টের সুখে চিৎকারে বলেছো-
বাঁচতে দাও আমায়!

তোমার মৃত চোখে
যুদ্ধের নিষ্ঠুর কষ্ট ভাসে
নিঃশ্ব পৃথিবী’তলে
ঈশ্বর ঘৃনা ভেতরে বাড়ে!

যুদ্ধের সীমাহীন কষ্ট
কাফনে মোড়া সত্য
নির্লজ্জ পৃথিবীর-
শান্তি পাক সবাই!

Friday, August 12, 2016

বহুরূপী

আজ তোমায় ছোঁবো না বেহুলা
বর্ষা আসেনি-
গ্রামের মেঠোপথে কাদায় পিছলে
রাগিণী কান্না করনি 
আসলে-
তুমি রাগতেই শিখনি! 

আজ তোমায় খাব না আফ্রিকা
অক্টোবর আসেনি- 
ক্যারিবিয়ানার দ্বীপে বৃষ্টিতে ভিজে 
মেয়েটির সাথে দেখা হয় নি
কালো ছিল বলে;
আসলে আমি আসিনি! 

আজ হাসবো না মোনালিসা
হাসতে শিখিনি!
বিয়োগের অস্তিত্বহীনতায় নিরবতা চোখে
ঠোঁট কাঁপানো কান্না কোনদিন কাঁদো নি
তুমি কল্পনার মায়া
আগে বুঝতে পারিনি!

Wednesday, June 8, 2016

সংকোচবোধ: মা এবং আমরা কিংবা আমি


সংকোচ বোধ কি পাপবোধের চাইতে ভাল? পাপ মানুষকে পিড়া দিলে সংকোচবোধ কি দেয় না? পাপবোধের মত সেও তো পরিচিত মানুষের থেকে দুরে দুরে থাকতে চায়! পালাতে চায়, নিজেকে ছোট করে দেয়! মাঝে মাঝে নিজের প্রতি খুব রাগ হয়। ঠিক নিজের প্রতি না, বলতে পারেন মায়ের প্রতি! হ্যাঁ আমি তার কথায় বলছি, যে বমি করার মত করে পেটের আবর্জনা পরিষ্কার করে আমায় উগলে ফেলে বুকের স্তনের বাটে মুখ দিতে দিয়েছিল কোন সংকোচ ছাড়ায়! জীবনের প্রথম দিন যেই আমার সেখানে কোন সংকোচ নামক শব্দের অস্তিত্ব ছিল না, সেই আমারই আজ আমার অলীক অস্তিত্বে দীর্ঘতম অযাচিত সংকোচ, বেড়ে চলেছে।
বলছিলাম- বাবার প্রতি রাগ হয়, মায়ের প্রতি খুব রাগ হয়- যখন বুঝতে পারি অন্যের পিতামাতাকে সাহায্য করতে কোন সংকোচবোধ নেই, কিন্তু তৃষ্ণায় কাতর সন্তানকে ঝুলে পড়া স্তন মুখে তুলে দেওয়া, সম্পূর্ণ অক্ষম সন্তানকে সংকোচ বিহীনভাবে কোলে তুলে নেওয়া সেই পিতামাতাকে একটু সাহায্য করতে সংকোচবোধ হয়!

মায়ের প্রতি রাগ হয়- যখন বুঝতে পারি অন্যের সেবা কিভাবে করতে হয় তা জানি কিন্তু নিজ মায়ের সামন্য সেবা কিভাবে করতে হয় তা অজানা। এটাও কি সংকোচ বোধ?

মায়ের প্রতি তখনই খুব রাগ হয়, খুব!- যখন বুঝতে পারি অন্যের কাছে ক্ষমা কিভাবে চাইতে হয় সে শিক্ষা পেয়েছি কিন্তু মায়ের কাছে কিভাবে ক্ষমা চাইতে হয় সে শিক্ষা মা কোনদিন দেয় নি!

তখনই মায়ের প্রতি রাগ হয়- যখন শিক্ষিত, মার্জিত, ভদ্র আচরণ একটা ছোট কুকুরের সাথে কি ভাবে করতে হয় তা জানি কিন্তু মায়ের সাথে কিভাবে করতে হয় তা জানি না।

তখনই মায়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করতে বাধ্য হয়- যখন এক থাল খাবার এনে বলে- বাবা! খেয়ে নে কিন্তু নিজে কখনো তার জন্য বিন্দু পরিমাণ শান্তুনা নিয়ে গিয়ে বলতে পারি না- মা! এটা খেয়ে নে!!!
তখনই মায়ের অস্তিত্বকে ছুড়ে ফেলি- যখন অন্যেকে কানায় কানায় ভালাবাসার শিক্ষা সেই মায়ের কাছেই পেয়েছি কিন্তু মাকে ভালাবাসার শিক্ষা একটুও পাইনি!

স্বার্থসিদ্ধিলাভকৃত মায়ের মুখে বলতে শুনেছি অনেকদিন অনেকবার- আল্লাহ্কে ভালবাস, মানুষকে ভালবাস, অন্যকে ভালবাস, ভালবাস রাস্তার ঐ কুকুরটাকে কিন্তু আজ অবদি আমার মত পরহীত, স্বার্থহীন, সু-শিক্ষিত কোন সন্তান, কোন কালে শোনেনি- হে আমার সন্তান, আমার বাবা- একবার আমায় ভালবেসতো (!) নিজ মাকে ভালবেসতো!
এই পর্যায়ে এসে যখন আমি শিক্ষিত, রুচিসম্মত, ভদ্র ও সবজান্তা একজন মানুষ, তখনও সংকোচবোধ হয়, মায়ের প্রতি রাগ হয়- খাবার টেবিলে, চায়ের কাপে, ঘুমাতে, রাস্তায়, একাকিত্বে, অফুরন্ত দুঃখের মাঝে! সুখে কি আর মায়ের কথা মনে থাকে! (?)
দীর্ঘকাল ধরে ভাবছি এতশত সংকোচবোধে আক্রান্ত হয়ে লাভ আছে? এটা কি ভালোত্ব, খারাপোত্ব নাকি অর্থহীন? সংকোচবোধ কি উপরোক্ত বিষয়েই থেমে আছে? আজকাল আমার সাথীর সাথে আমারই আরেক সাথীর কলোহ হলে সেই সাথীদ্বয়ের মাঝে উভয়ের কথা উঠাতে সংকোচবোধ হয়! কোন পরিচিত মুখ দীর্ঘ বনবাসে উজ্জল হয়ে উঠলে নিজে আলোহীন রয়ে গেছি বলে সেখানে সংকোচবোধ হয়। সংকোচবোধ হয়- শত্রুর জলযুক্ত যুগল মুছে দিতে না পারা। মায়ের? সেতো এক অযাচিত সাফল্যের পুরুষ্কার! আজকাল সংকোচবোধের একেকটা শাখা তৈরি হচ্ছে, তার থেকে প্রশাখা। এভাবে জীবনে পাপ ছাড়াও পাপের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে!
অনেকে প্রশ্ন করে মানুষ কত প্রকার? এর সোজা উত্তর “পৃথিবীর মানুষ যতগুলো ঠিক ততগুলোই মানুষের প্রকার!”
কথা হল- সংকোচবোধ তবে কত প্রকার? আমি ভাবতে বসলাম। মানুষের ডিএনএ’র মত যদি মানুষের সংকোচবোধ হয় তবে তো, একেক মানুষ একেক সংকোচবোধে রোগাক্রান্ত! বড় সমস্যার বিষয় এটি। যে বোধের চিকিৎসা নেই, সেটা এভাবে প্রকট আকার ধারণ করে থাকলে তার ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয় নি। নাকি এটা এইডস কিংবা ক্যান্সারের চাইতে কম কিছু। আমার তা মনে হয় না। একদা, কুষ্ঠ রোগ আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্ষে কেউ আসতো না। কিন্তু এখন তো সংবোচবোধের কারণে পাশে থেকে মুখ লুকিয়ে থাকতে হয়। কথা না বলে সময় কাটাতে হয়!
জানো! আমার মানে আমি মাঝে মাঝে ভাবি এটা কি আমার ব্যর্থতা? এই যে বাবা-মায়েে সেবা না করতে পারা, সংকোচবিহীন জায়গাগুলোতে সংকোচবোধ করা ইত্যাতি। নাকি আমার শিক্ষার অভাব। নাকি এটা বাবা মায়ের ভুল কিংবা ব্যর্থতা!! হতে পারে। কেননা, শিশুতে ডান হাতে খাওয়ার শিক্ষা দিলে সে ডান হাতেই খায়, বাম হাতে দিলে বাম হাতেই খেতো! তেমন ধরো, এই সংকোচবোধেরও একটা শিক্ষা দরকার ছিল। শিক্ষা দরকার ছিল নিজ পিতামাতাকে ভালবাসার। তারা সে শিক্ষা না দিয়ে কিভাবে আশা করে নিজ সন্তানের ভালবাসা?
নাহ! ভাবনাটা ঠিক নয়। এটা নিজেকে দোষমুক্ত করা। পাপ করে বলা- আমি পাপ করিনি! পাপ করলে মানুষ পাপ মুক্তির উপায় খুজে! আমিও কি তবে খুজছি? (!) হতেও পারে...... সংকোচবোধ একটা পাপ! ভেতরের অদৃশ্যতা যখন বেরিয়ে আসতে চায়, তখন সেই অদৃশ্যতা অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই আমি আর আমরা একই পাপে বাধিত। একই সংকোচবোধে আক্রান্ত। মায়েরাও হয়তো বলে- যে সন্তানের উলঙ্গ দেহ ছুতে কোনদিন সংকোচবোধ করিনি, সেই সন্তান যখন আবৃত সবকিছুর দ্বারা তখন যেন মন খুলে “খোকা ঘুমালো, পাড়া জোড়ালো” গাওয়া হয় না। বলা হয় না- বাবা! বয়স্করাও তো শিশু! একটু সাহায্য কর। বলতে পারে না তারা। সেই একই কারণে। সংকোচবোধ! পিছে সন্তান যেন বেঁকে না বসে!
আমিও পারিনা, আমার সাথীদ্বয়ের আকাশে সম্পূর্ণ রূপে আলো জ্বালিয়ে এই সংকোচবোধকে ভুলিয়ে তুলতে। মায়ের এই রাতের বিষণœ চোখে হাসির আলতো আভা ফোটাতে। পারিনা বাবার পাশে শুয়ে খোলা আকাশ দেখতে। হয় না ভ্রাতার গায়ে পা তুলে একরাত ঘুমা! বলতে পারিনা সাথীদ্বয়ের- তোমরা এটা কর না। পারিনা...... পারিনা জানো (!) হাসপাতালের ছাড়পত্রের মত এই সংকোচবোধ সারিয়ে ছুটি দিতে। চিরদিনের জন্য সহজে!

Tuesday, March 29, 2016

মৃত্যু প্রেরণা


রক্তক্ষরণ অগ্নিবর্ষণ নরকের প্রতিভায়
তৃষ্ণার্ত মন নগ্নকরণ করেছি বাস্তবতায়
জ্বলে উঠুক তবে ভেজা আগ্নেয়গিরি স্বপ্ন পুড়ে হোক ছাই
আমি বারবার হেরেও মৃত্যুর কাছে একবার বিজয়ী হতে চাই!
দেবে কি কেউ সেই জীবন আলো মৃতের উৎসবে জ্বালতে চাই!
পরাজিত যোদ্ধার মনে ভালবাসার শহর সাজাতে চাই!

বন্ধুর পথ ডাকুক আমায় আমি পথে ভাঙবো না
হায়েনার দল ঘিরুক আমায় আমি ফিরে যাব না
অসত্য মিথ্যার প্রাচীর না ভেঙে দীর্ঘশ্বাস ছাড়বো না
গড়বো নিজের মত পৃথিবী শপথ আমার উন্মাদনায়

কেঁপে উঠুক তবে সাফল্য ধরণী ব্যর্থ হোক ভাগ্য সময়
আমি বারবার ভেঙে সময়ের কাছে একবার বিজয়ী হতে চাই
দেবে কি কেউ সেই সময় ঘড়ি ব্যর্থ যুবকের হাতে পরাতে চাই
অসমাপিত মানুষের দ্বারে সমাপনী হাসিমুখ আঁকতে চাই!

জ্বলো মানুষ! জ্বালো আঁধার! জাগো আমার ডাকে
রণজয়ী কণ্ঠস্বর তোল- (হেহ হেহ হেহ) যোদ্ধার বেশে!

আমার কোন দুঃখ নেই!

 এ মুহূর্তে আমার কোন  দুঃখ নেই!
আমার দুঃখের কোন কারন থাকতে পারে না!
কারণ আমি এতিম না। কাছের কেউ মারা যায়নি! তাই মৃত্যুশোকে ভাসতে হয় না 'প্রতিবছর'!
বন্ধুবান্ধবও গলাই শিকল করে রাখার মত। সারাক্ষণ বেদনায় আনন্দহত করে রাখে।
চাহিদা সীমিত বিধায় কিছুর আশায় থেকে মনঃক্ষুণ্ণ হবার সম্ভাবনাও কপালে জুটে না!
যেটা পাইনা সেটাকে নিয়ে চেতনায়  বিষের সীঁদ কাটতে দেই না।
কারণ আমি বিশ্বাস করি- যেখানে চাহিদা স্থিতিথিমীত, সেখানে হাসির সম্ভবনা অবধারিত।
কোন স্বপ্ন নেই! বড় মানুষ হবার ইচ্ছে নেই!  যেটা পাই সেটাই আমার কাছে স্বপ্ন!
ক্ষোভ কিংবা আবেগ কোনটাই আমাকে স্পর্ষ করতে পারেনা।
আমি বাস্তবতাকে বিশ্বাস করি, যা আমার কাছে আসে তাই নিয়ে বেঁচে থাকি।
প্রত্যেকটা সময়কে আমি নিজের জন্য ভাবি। প্রত্যেকটা দিন সবার মতই আমারও। তাই যা হবার বা হবে আমি তাকে খুব আনন্দের সাথে গ্রহণ করি।
আমি ভাল অথবা মন্দ দুটোতেই বেঁচে থাকার অসীম সম্ভবনা খুঁজে দেখি।
কারণ আমি বিশ্বাস করি- “শুধু ভাল কিংবা শুধু মন্দতে জীবন বেড়ে উঠতে পারে না” !
বিপরীতমূখী প্রত্যেক জিনিসের মতই এ জীবন।
আমি হাসির মাঝে যে আনন্দ খুঁজে পাই, ঠিক সেই আনন্দটুকু কান্নার মাঝেও খুঁজে পাই!
আমি আবারও বলছি আমি প্রত্যেকটা জিনিসের মাঝে বেঁচে থাকার আনন্দটুকু ভিষনভাবে খুঁজি। সেটা অসহ্য যন্ত্রণার মৃত্যু হোক না কেন আমি সেটাকেই ভালবাসি।
কারণ আমি বিশ্বাস করি- সকল জীবের একদিন মৃত্যু হবে।
”যেদিন মানুষ দুঃখের মাঝে সুখ খুঁজে পায়, সেদিনই মানুষ আসল সুখি হয়”
আর আমি তো বললামই সকল কিছুতেই আমার সুখ!

এবার বলুুন তো-এত কিছুর পরেও কি একজন মানুষ অসুখি থাকতে পারে?

অহিংসুক

রোজ একটু একটু করে মস্তিষ্কে
নিজের অর্জিত রক্ত ফুরাচ্ছি
নিজেই নিজের এ ধ্বংস দেখে
একটুও হিংসে হচ্ছে না
ভাল কবি না হলে
কেউ কারও হিংসে করে না!

Tuesday, February 23, 2016

নোরা

ভিষন রাত, নোরা
এখনো অনুভব করি
তোমার এক কাপ উষ্ণতা
জামার বোতামে আদর কাটা
তোমার ছোট ছোট হাসি
চুপচাপ বেছে নেওয়া
তোমার বৈকালিক ক্ষুদ্র শান্তনা।

অনুভবের আশপাশে এখন-
মানচিত্রের মত দুরত্ব তোমার
ট্যারোন্টোলা নাচ শেষে
একটু কাছে আসবে?
এখন ভিষন রাত, নোরা!

অজানা আগামী

একদিন আমার পেছনে অনেক মানুষ থাকবে
 একদিন আমার পেছনে অনেক কান্না থাকবে
একদিন আমার পেছনে অনেক শান্তনা থাকবে
একদিন আমার পেছনে অনেক না ফেরা থাকবে
একদিন অজানা অনেক আগামী  থাকবে। শুধু-
সেদিন আমার পিছনে কোন আগামী থাকবে না!

আস্তাবল

এখনো আস্তাবল অপেক্ষা করে-
ঘুমের দরজা, দূরের ঘোড়া
পরিচিত রাস্তায় আততায়ীর আঘাত
বহুদুরে থেকে যায় আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ।

মিছিলে মিছিলে যুদ্ধের শ্লোগান
হেক্টর বনাম মহাবীর রুস্তম
বার্তাবাহী সৈন্য শত্রুর সম্মুখীন
কে বিজয়ী শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি?

বহুবছর পর-
কালো ঘোড়ার খুরের শব্দে
আস্তাবল গুলো চেয়ে থাকে
পড়ে রয় মাটি চাপা পড়ে
আমার মতই শুন্যতা বুকে নিয়ে!