Wednesday, September 16, 2015

মুক্ত বিষাদ

পাল্টানো মৌনজোয়ারে সময় ধুয়ে যায়
প্রেয়সী বর্ষার চোখে সুখ চলে যায়
বিরহ সন্ধ্যা নিয়ে আসে নির্মল বেদনা
সকালের আলসেমি ঘুমে
তন্দ্রাচ্ছন্ন স্বপ্নরা দেয় হানা।

আবর্তমান প্রত্যাশার মেঘনীল ঘিরে
স্মৃতিহীনা অবরোধ আরও পিষ্ট করে
মুখ চুবড়ে খোলা রোদে যায় যায় বেলা
নজরুলের কবিতা বিদ্রোহ ঘুচে
এখন মুক্ত বিষাদের দুরন্তপনা।

উল্টানো আকাশে কাঁচা মাটির গন্ধ
স্যাঁতসেঁতে স্মৃতিফলক একবার ছুঁয়ে দেখ
অনুভব কর নিঃশ্বাসে, আছো দুরে কতটা?
স্বর্গ নরকের অন্তিম এই লগ্নে- জানি খুঁজবে না
ছিটিয়ে ফেলা স্বপ্নের জ্যোতিকণা।

Saturday, September 12, 2015

বিষণ্ণ মুহূর্ত

ছেড়ে দিয়েছি
হাওয়ায় উড়ো
আকাশ থেকে মহাকাশে
নক্ষত্র থেকে আলোকবর্ষে।

উনুনের চৌকাঠে
রান্না কর
শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কুয়াশায়
চশমার কাঁচ ভিজিয়ে নিও
আমাকে আর দেখতে হবে না।

তুমি স্বাধীন
অভিমানী সিমান্তে
যে কোন দ্বীপে
দ্বীপবাসী হতে পারো
অশ্লীল শ্লোগানে কেউ বাঁধা দিবেনা।

আদিম বর্ষণে
স্মৃতিরক্ত ধুয়ে ফেলো
এখনকার মত বদলে নিও
মৃত তরুণীর মত, নিজেকে!

রোমান্টিক কষ্ট
বিদায় হও
বিষণ্ণ মুহূর্ত
দুরে পালাও
তুমি আমার বলে কিছু নেই
আমি তোমার বলে আর কিছু নেই!

Friday, August 28, 2015

প্রাচীন জীবন

দশ হাজার বছর ধরে দু'হাজার স্বপ্ন দেখেছি
নির্বোধের অতলে অজানা বিজ্ঞান
ধোঁয়াটে নীল পুরস্কার!
রেলপথের ছোট ছোট পায়ে
ত্রিশ গজের হাসি
ভালবাসি
থেঁতলানো স্বপ্নের আকাশ
দু'শ বছরের পুরনো
আমার জীবন!


প্রাচীন কবিতার কবরে
ঝুলিয়ে গেছে কেউ আমার স্মৃতি
দেখেছিলাম সেদিন গ্রামীণ কফিন
কঁড়া নেশায় কেটেছিল সে ঘোর
স্বর্গের দু'হাজার মৃত স্বপন।

Monday, August 24, 2015

শেষ গল্পের শেষ

এখন আকাশে বৃষ্টি, দেখা যাচ্ছে না
রাতের বৃষ্টি দেখা যায় না
দেখতে গেলে ভিজতে হয়
সব সময় ভেজা যায় না।

এখন বৃষ্টিতে ভিজছে স্বপ্নেরা
কোলবালিশের ঘোলাটে তারারাও
দূর থেকে চেয়ে আছে
সু-দীর্ঘ দৃষ্টি নিয়ে দেখছে_
আমি কেমন আছি!

প্রথম তারাটা লাজুক শেষ তারাটা দেখে
তারও কি বয়স কম হয়েছে।

ভালকেই ভালবাসলে

তুমি কি জানো-
চুমু খেলে হজম করা লাগেনা
থেঁতলানো চিবুকের রসালো অনুভূতি
পরিমাপ করা যায় না।
জানো কি-
দেহের এপাশ ওপাশে উল্টিয়ে
ভালবাসা খোঁজা যায় না!
ক্যামেরা দিয়ে তোমায় দেখা যায়;
স্বপ্ন দেখা যায় না!

আগস্টের চাঁদ ভালবাসলে
কাঁচা ঠোঁট ভালবাসলে
ভালবাসলে পুষ্ট নগ্নতাকে
সময়ের কালক্ষেপণে
কেড়ে নেওয়াকে ভালবাসলে
শুধু ভালকেই ভালবাসলে
আমায় বাসলে না! 

বাকরূদ্ধ(গ্রামীণ কফিন)

আমি রবীন্দ্রনাথের মত উঁচুস্থানে বসিয়া সবাইকে দেখিতেছি আর হাসিতেছি! মানুষ কতটা পাগল! কতটা মূর্খ হলে সামান্য ঘটনাকে বড় করিয়া বাকযুদ্ধ করিতে পারে। ঘুম হতে উঠিয়া দৃষ্টি যুগল কচলাইতে কচলাইতে সেই যুদ্ধের সূচনা হয়। সূর্য যখন অন্তিমে গত হয়, তখনো ক্লান্ত রুগ্ন হয়ে আসা ধারালো তালোয়ারের মত অগ্নিবাক্য বিদ্ধ হয় হেরে যাওয়া মানুষের উপর। সমাজের উপর টিকটিকিরর মত মাথা মোটা মানুষ গুলো বড্ড সুন্দর কথা বলায় অভ্যস্ত! ধর্ষিতার যন্ত্রণার চাহিতে তাঁহাদের কথার যন্ত্রণা অনেক। যন্ত্রনা কত রকমের তাহারা বুঝিতেও চেষ্টা করেনা। বিষের যন্ত্রণা, ফোঁড়ার যন্ত্রনা, মৃত মানুষ স্মরণের যন্ত্রণা আরও আছে অনেক। নাম দেওয়া যায় না সবকিছুর। আমিও তাহাদের নাম না দেওয়া যন্ত্রণার কথা বোঝানোর চেষ্টা করিয়াছিলাম। তাহারা তা না বুঝিয়ায় বলিল- "সবাই সব কিছু পারেনা। তুমিও পারিবে না। তুমি "ও" হতে পারিবেনা"।
আমি রবীন্দ্র কিংবা নজরুল হতে চাই নি। আমি "আমি" হতে চেয়েছি!

Saturday, August 22, 2015

শেষের শেষ

অনেকদিন পর
রোদের তাপে বুক ছিড়েছে
বুকের কোণে মরুভূমি
স্বচ্ছজলে মুখ দুলেছে
দীর্ঘশ্বাসে মিলেছে
ঊনবিংশ শতাব্দীর শূন্যতা!

অনেকদিন পর
আবার এখানে যুদ্ধ ফিরেছে
যোদ্ধারা এখন বিশ্রামে,
অবসর যাপনে ব্যস্ত।
নিঃশব্দে যুদ্ধ বড় হয়েছে
আমি তাকিয়ে দেখেছি
দূর পাহাড়ের মত
খোলা মৃত চোখের মত
আমার বন্ধুরাও নিশ্চুপ!

অনেকদিন পর
আমি ক্লান্ত, ভিষনই ক্লান্ত
যুদ্ধহীন যুদ্ধে নিভুপ্রায় জীবন
রুক্ষ আশ্বাস খোঁজে, বোঝে-
বেঁচে থাকাটা শুধু বেঁচে থাকা নয়।

সব শেষ হবারও শেষ আছে
এ বিশ্বাসের নামই বেঁচে থাকা।