Tuesday, March 29, 2016

মৃত্যু প্রেরণা


রক্তক্ষরণ অগ্নিবর্ষণ নরকের প্রতিভায়
তৃষ্ণার্ত মন নগ্নকরণ করেছি বাস্তবতায়
জ্বলে উঠুক তবে ভেজা আগ্নেয়গিরি স্বপ্ন পুড়ে হোক ছাই
আমি বারবার হেরেও মৃত্যুর কাছে একবার বিজয়ী হতে চাই!
দেবে কি কেউ সেই জীবন আলো মৃতের উৎসবে জ্বালতে চাই!
পরাজিত যোদ্ধার মনে ভালবাসার শহর সাজাতে চাই!

বন্ধুর পথ ডাকুক আমায় আমি পথে ভাঙবো না
হায়েনার দল ঘিরুক আমায় আমি ফিরে যাব না
অসত্য মিথ্যার প্রাচীর না ভেঙে দীর্ঘশ্বাস ছাড়বো না
গড়বো নিজের মত পৃথিবী শপথ আমার উন্মাদনায়

কেঁপে উঠুক তবে সাফল্য ধরণী ব্যর্থ হোক ভাগ্য সময়
আমি বারবার ভেঙে সময়ের কাছে একবার বিজয়ী হতে চাই
দেবে কি কেউ সেই সময় ঘড়ি ব্যর্থ যুবকের হাতে পরাতে চাই
অসমাপিত মানুষের দ্বারে সমাপনী হাসিমুখ আঁকতে চাই!

জ্বলো মানুষ! জ্বালো আঁধার! জাগো আমার ডাকে
রণজয়ী কণ্ঠস্বর তোল- (হেহ হেহ হেহ) যোদ্ধার বেশে!

আমার কোন দুঃখ নেই!

 এ মুহূর্তে আমার কোন  দুঃখ নেই!
আমার দুঃখের কোন কারন থাকতে পারে না!
কারণ আমি এতিম না। কাছের কেউ মারা যায়নি! তাই মৃত্যুশোকে ভাসতে হয় না 'প্রতিবছর'!
বন্ধুবান্ধবও গলাই শিকল করে রাখার মত। সারাক্ষণ বেদনায় আনন্দহত করে রাখে।
চাহিদা সীমিত বিধায় কিছুর আশায় থেকে মনঃক্ষুণ্ণ হবার সম্ভাবনাও কপালে জুটে না!
যেটা পাইনা সেটাকে নিয়ে চেতনায়  বিষের সীঁদ কাটতে দেই না।
কারণ আমি বিশ্বাস করি- যেখানে চাহিদা স্থিতিথিমীত, সেখানে হাসির সম্ভবনা অবধারিত।
কোন স্বপ্ন নেই! বড় মানুষ হবার ইচ্ছে নেই!  যেটা পাই সেটাই আমার কাছে স্বপ্ন!
ক্ষোভ কিংবা আবেগ কোনটাই আমাকে স্পর্ষ করতে পারেনা।
আমি বাস্তবতাকে বিশ্বাস করি, যা আমার কাছে আসে তাই নিয়ে বেঁচে থাকি।
প্রত্যেকটা সময়কে আমি নিজের জন্য ভাবি। প্রত্যেকটা দিন সবার মতই আমারও। তাই যা হবার বা হবে আমি তাকে খুব আনন্দের সাথে গ্রহণ করি।
আমি ভাল অথবা মন্দ দুটোতেই বেঁচে থাকার অসীম সম্ভবনা খুঁজে দেখি।
কারণ আমি বিশ্বাস করি- “শুধু ভাল কিংবা শুধু মন্দতে জীবন বেড়ে উঠতে পারে না” !
বিপরীতমূখী প্রত্যেক জিনিসের মতই এ জীবন।
আমি হাসির মাঝে যে আনন্দ খুঁজে পাই, ঠিক সেই আনন্দটুকু কান্নার মাঝেও খুঁজে পাই!
আমি আবারও বলছি আমি প্রত্যেকটা জিনিসের মাঝে বেঁচে থাকার আনন্দটুকু ভিষনভাবে খুঁজি। সেটা অসহ্য যন্ত্রণার মৃত্যু হোক না কেন আমি সেটাকেই ভালবাসি।
কারণ আমি বিশ্বাস করি- সকল জীবের একদিন মৃত্যু হবে।
”যেদিন মানুষ দুঃখের মাঝে সুখ খুঁজে পায়, সেদিনই মানুষ আসল সুখি হয়”
আর আমি তো বললামই সকল কিছুতেই আমার সুখ!

এবার বলুুন তো-এত কিছুর পরেও কি একজন মানুষ অসুখি থাকতে পারে?

অহিংসুক

রোজ একটু একটু করে মস্তিষ্কে
নিজের অর্জিত রক্ত ফুরাচ্ছি
নিজেই নিজের এ ধ্বংস দেখে
একটুও হিংসে হচ্ছে না
ভাল কবি না হলে
কেউ কারও হিংসে করে না!

Tuesday, February 23, 2016

নোরা

ভিষন রাত, নোরা
এখনো অনুভব করি
তোমার এক কাপ উষ্ণতা
জামার বোতামে আদর কাটা
তোমার ছোট ছোট হাসি
চুপচাপ বেছে নেওয়া
তোমার বৈকালিক ক্ষুদ্র শান্তনা।

অনুভবের আশপাশে এখন-
মানচিত্রের মত দুরত্ব তোমার
ট্যারোন্টোলা নাচ শেষে
একটু কাছে আসবে?
এখন ভিষন রাত, নোরা!

অজানা আগামী

একদিন আমার পেছনে অনেক মানুষ থাকবে
 একদিন আমার পেছনে অনেক কান্না থাকবে
একদিন আমার পেছনে অনেক শান্তনা থাকবে
একদিন আমার পেছনে অনেক না ফেরা থাকবে
একদিন অজানা অনেক আগামী  থাকবে। শুধু-
সেদিন আমার পিছনে কোন আগামী থাকবে না!

আস্তাবল

এখনো আস্তাবল অপেক্ষা করে-
ঘুমের দরজা, দূরের ঘোড়া
পরিচিত রাস্তায় আততায়ীর আঘাত
বহুদুরে থেকে যায় আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ।

মিছিলে মিছিলে যুদ্ধের শ্লোগান
হেক্টর বনাম মহাবীর রুস্তম
বার্তাবাহী সৈন্য শত্রুর সম্মুখীন
কে বিজয়ী শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি?

বহুবছর পর-
কালো ঘোড়ার খুরের শব্দে
আস্তাবল গুলো চেয়ে থাকে
পড়ে রয় মাটি চাপা পড়ে
আমার মতই শুন্যতা বুকে নিয়ে!

Monday, November 2, 2015

হাহ (Concept Story and Lyric)

এ লিরিকটা সমাজের সে সব মেয়েদের নিয়ে লেখা যাদের পরিনত বয়সের আগেই দোতলা জীবন শিকলে নগ্ন ঘরে আবদ্ধ হতে হয়েছে। স্বপ্ন পরিপক্ব হওয়ার আগেই স্বপ্ন টিকাবার জন্য যুদ্ধ করতে হয়েছে এবং করতে হচ্ছে! মানুষ সারা বছর ধরে যে সব স্বপ্ন দেখে আসে তা নিছক কিছু পূরন করতে পারে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যাদের এই নিছকি স্বাদ টুকুও পাওয়া হয় না। সমাজ, পরিবারের চাপের মুখে তারা মেনে নিতে বাধ্য হয় যে, বিয়ের পর সে সুখি হবে! বাধ্য হয়ে নিজের সব ঢেলে সাজিয়ে রাখে স্বপ্নহীন এক পুরুষের জন্য। অতীতের হাজার হাজার স্বপ্নের জানালার ফাঁকে রোদ হইতো কিছু সময় ওঠে কিন্তু বাস্তবিক ভাবে তারা সুখ খুঁজে পায় না। কোথাও যাবারও ক্ষমতা নেই। এরা সারাজীবন "নোরা"র স্বাভাবিক জীবন যাপনকে বেছে নেয়। কিন্তু নোরা'র মত সাহস দেখিয়ে বলতে পারে না, "স্বামী সংসার বাদেও আমার নিজের একটা জীবন আছে! কুচুরীপানা'র মত ভাসমান। নিজের কোন স্বপ্ন নেই। আশাও হইতো করে না। জীবন কি এরা বলতে পারবে না। লালিত স্বপ্ন গুলো আগাছা পরিত্যক্ত হিসাবে একদিন কষ্ট ডাস্টবিনে ঠাই নেয়। নিজ প্রেমিক, স্বপ্নের জন্য কিছু না করতে পারার বেদনায় জর্জরিত থাকে তাদের শুকনো উষ্ণ চোখ। লিরিকে একদিকে তাদের সেসব কষ্ট যেমন বলা হয়েছে তেমন অনুপ্রেরণাও জোগানো হয়েছে। রোজ রাতে ঘুমন্ত শিশু রেখে জানালায় চাঁদ দেখে যদি একটু শান্তি পায়!


শিরোনামঃ হাহ!


নিরব শূন্য শহর অজানা রয় তোমার ভেতর
তোমার অসাড় চোখে না পারা কান্নাতে
ভাসে পৃথিবীর সব শহর

তোমার মাঝে আলগা ভালবাসা
অজানার অনন্তকালে মিশে থাকে
নিরব থাকে অস্পষ্ট অনুভূতি
তোমার চেয়ে থাকা স্বপ্নের রাস্তাতে
ধ্বংস মিছিলের বিজয়ী সংগীত

দেখ আজ! সমাধি তোমার পালিত জীবন
তবু বাঁচিয়ে রাখে মানুষ
বাঁচিয়ে রাখে স্বপ্নের আলিঙ্গন।

তোমার কাঁচাঘরে অক্লান্ত বৃষ্টিপাতে
ভেসে যাক সব পরাশ্রয়ী কাতরতা
সূর্যের পরকালীয় অগ্নিস্নানে
বিজয়ীর মত শক্ত হোক
তোমার কমল উদারতা

তোমার অন্ধকারের মত পৃথিবীতে
জ্বালিয়ে রাখো বিসর্জনের উষ্ণতা
উৎসর্গিত মাঝ রাতে 
তুমি অমর! নিজের কাছে
কেউ বলেনি, কেউ বলবে না!


আজ থাক বালিকা তোমার অতীত পৃথিবী আর বর্তমান 
ইশ্বরও জমিয়ে রাখে তোমার মত কিছু অভিমান!